GitHubLinkedInMedium

Sifat

প্রসেসর: এক মহাজাগতিক ক্যালকুলেটর

আমরা যখন নতুন কোনো ফোন বা ল্যাপটপ কিনি, তখন সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটির খোঁজ নিই তা হলো ‘প্রসেসর’। আমরা একে কম্পিউটারের ‘মস্তিষ্ক’ বলে ডাকি। কিন্তু এই ছোট্ট চারকোণা সিলিকনের টুকরোটির ভেতরে আসলে কী আছে? এটি কি সত্যিই মানুষের মস্তিষ্কের মতো নিজে থেকে চিন্তা করতে পারে?

আসলে, প্রসেসরের ভেতরে কোনো জাদুমন্ত্র নেই, এটি হলো এক মহাজাগতিক গতির ক্যালকুলেটর বা হিসাবঘর।

বুদ্ধিমত্তার বিভ্রমঃ
একটু ভেবে দেখুন, প্রসেসর কি আসলেই মানুষের মতো বুদ্ধিমান? সে কি নিজে থেকে কোনো নতুন আইডিয়া তৈরি করতে পারে? উত্তর হলো—না। প্রসেসরের নিজস্ব কোনো উদ্ভাবনী ক্ষমতা নেই।

আমরা যখন কম্পিউটারে কোনো জটিল গেম খেলি, চমৎকার ছবি আঁকি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে কথা বলি, তখন আমাদের মনে হয় যন্ত্রটি বোধহয় অনেক চালাক। আসলে এটি একটি ‘বিভ্রম’। প্রসেসর শুধু আপনার দেওয়া নির্দেশগুলো এত দ্রুত হিসাব করে মেলাতে পারে যে, আমাদের ধীরগতির মানবিক মস্তিষ্কের কাছে সেই গতিটাকেই ‘বুদ্ধিমত্তা’ বলে মনে হয়।

গতির নেপথ্যে: সিলিকনের হৃদস্পন্দন প্রসেসরের গতি আমরা মাপি ‘গিগাহার্টজ’ (GHz) দিয়ে। এটি আসলে তার কাজের তালের ছন্দ।

ধরুন, আপনি যে ফোনটি ব্যবহার করছেন তার প্রসেসরের গতি ৩ গিগাহার্টজ। এর মানে কী জানেন? এর মানে হলো, ওই ছোট্ট চিপটি এক সেকেন্ডে ৩০০ কোটিবার হিসাব মেলাতে পারছে। একজন মানুষ তার পুরো জীবনেও বসে বসে যতগুলো গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, এই সিলিকনের ঘরটি চোখের এক পলকে তার চেয়ে বেশি কাজ করে ফেলে। এই গতির চশমা দিয়েই সে পুরো ডিজিটাল পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

জাদুকরী ঘরের তিন কারিগরঃ
প্রসেসরের এই মহাজাগতিক হিসাবগুলো সম্পন্ন করার জন্য তার অন্দরমহলে মূলত তিনজন কারিগর রাতদিন কাজ করে:

১. পরিচালক (Control Unit):
এর কাজ হলো ট্রাফিক পুলিশের মতো নির্দেশগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। কে আগে প্রসেস হবে আর কে পরে, সেই শৃঙ্খলা সে বজায় রাখে।

২. গণিতবিদ (ALU - Arithmetic Logic Unit):
সব যোগ-বিয়োগ আর যুক্তির লড়াইগুলো এই ঘরেই হয়। এটিই হলো প্রসেসরের আসল ইঞ্জিন

৩. নোটবুক (Registers):
কাজ করার সময় খুব দ্রুত কিছু তথ্য ক্ষণিকের জন্য মনে রাখার দরকার হয়। এই জায়গাটি হলো প্রসেসরের সেই তাৎক্ষণিক হিসাব লিখে রাখার খাতা।

মানুষের মস্তিষ্ক অনেক সময় ভুল করে, ক্লান্ত হয়, আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রসেসর হলো নিখুঁত শৃঙ্খলার এক চরম উদাহরণ। সে কোনো ভুল করে না, তার কোনো ক্লান্তি নেই।

তবে সে যত দ্রুতই কাজ করুক না কেন, প্রসেসরের একটা বড় সীমাবদ্ধতা আছে। সে কোনো তথ্য নিজের কাছে চিরস্থায়ীভাবে জমিয়ে রাখতে পারে না। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তার হিসাবের খাতা পরিষ্কার হয়ে যায়।

তাহলে প্রসেসর যে এত বিশাল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করছে, সেগুলো সে পায় কোথায়? তার কি আলাদা কোনো ‘গুদামঘর’ আছে যেখান থেকে সে দরকারি জিনিসগুলো খুঁজে আনে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমাদের পরবর্তী পর্ব— মেমোরি ও স্টোরেজ: কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডার